Search

মফস্বলের সাহিত্য সংগঠন - নাঙ্গলকোট রাইটার্স এসোসিয়েশন

২০০৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে লাকসাম ব্যাংক রোডের সাপ্তাহিক সময়ের দর্পণ অফিসে গিয়ে সাংবাদিক ফারুক আল শারাহ ভাইয়ের সাথে আলাপ আলোচনা করে নাঙ্গলকোটের লেখকদের সংগঠিত করতে একটি সংগঠন করার বিষয়টি জানাই।


মফস্বলের সাহিত্য সংগঠন -  নাঙ্গলকোট রাইটার্স এসোসিয়েশন

// আজিম উল্যাহ হানিফ //
 ২০০৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে লাকসাম ব্যাংক রোডের সাপ্তাহিক সময়ের দর্পণ অফিসে গিয়ে সাংবাদিক ফারুক আল শারাহ ভাইয়ের সাথে আলাপ আলোচনা করে নাঙ্গলকোটের লেখকদের সংগঠিত করতে একটি সংগঠন করার বিষয়টি জানাই। এবং সেই সাথে দ্রুত সংগঠিত করার জন্য প্রয়োজন অনুভব করি। তখন আমার কর্মস্থল সাপ্তাহিক আলোর দিশারী অফিসে বসে মুকুল মজুমদার, ইয়াছিন মজুমদার, ফারুক শাহরিয়ার, আনোয়ার হোসেন, আশিক উল্যাহ সুমন, রাশেদুল ইসলাম রাসেলদের সাথে আলাপ আলোচনা করে একটি লিফলেট ছাপাই। লিফলেটে লাকসাম-নাঙ্গলকোটের লেখকদের একত্রিতকরণ বিষয়টি উল্লেখ করলেও পরবর্তীতে আমরা শুধু নিজ উপজেলা নাঙ্গলকোটকে নিয়েই কাজ শুরু করি। ২০ নভেম্বর নাঙ্গলকোট হাসান মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ মসজিদে নাঙ্গলকোট রাইটার্স এসোসিয়েশনের কমিটি গঠন করার আগ পর্যন্ত নাঙ্গলকোট কুয়েত প্লাজায়, লাকসাম সময়ের দর্পণ অফিসে, ক্যাফে নুর হোটেলে, সামনীরপুলে আলোর দিশারী পত্রিকা অফিসে, ফারুক শাহরিয়ার সাহাপাড়ার বাসায় বারবার বসা হয়। অবশেষে ক্যাফে নুর হোটেলে বহু প্রস্তাবিত নাম থেকে সিলেক্ট হয় নাঙ্গলকোট রাইটার্স এসোসিয়েশন নামকরণের। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে ইতিহাসের পাতায় থেকে যাবে ১৩ জন লেখকের নাম- ফারুক শাহরিয়ার, শফিকুর রহমান রেজা, অধ্যক্ষ ইয়াছিন মজুমদার, কবি এস এম আবুল বাশার, এডভোকেট আনোয়ার হোসেন, মাইন উদ্দিন মানিক, মুকুল মজুমদার, আশিক উল্যাহ সুমন, রাশেদুল ইসলাম সুমন, ইসমাইল হোসেন রতন, আজিম উল্যাহ হানিফ, ফারুক আল শারাহ, রোমানা আফরোজ রুবি। কমিটি গঠন হলে অদৃশ্য কারণে ১৩ জনের মধ্যে ১২ জনকে রাখা হলেও ফারুক আল শারাহ বাদ পড়েন। এমনকি কোন কমিটিতেই তাকে রাখা হয়নি। তবে ওই কমিটিতে অন্য যারা ছিলেন মাহমুদ হোসাইন মজুমদার মাসুদ, প্রয়াত মাস্টার ইকবাল হোসেন প্রতিষ্ঠাতা সহযোগী সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন। উল্লেখ্য যে- প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম কমিটিতে ২০০৯-২০১১ সেশনে সভাপতি করা হয় ফারুক শাহরিয়ারকে, সাধারণ সম্পাদক করা হয় শফিকুর রহমান রেজাকে, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রথমে মাইন উদ্দিন মানিক হলেও পরে প্রয়াত ইকবাল হোসেনকে করা হয়। এই কমিটি সংগঠনের পোষ্টার বৃহত্তর লাকসামে প্রচার করা হয়। সংগঠনের ব্যানারে পেষ্টুন প্রকাশ করে। ২০১০ সালে একটি ম্যাগাজিন বের করা হয়। নাম দেয়া হয় ‘রাইটার্স ম্যাগাজিন’। ২০১১ সালে কমিটির মেয়াদ শেষ হলে নাঙ্গলকোট আল মানারাত স্কুল এন্ড কলেজ মিলনায়তনে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আহবায়ক হন অধ্যক্ষ ইয়াছিন মজুমদার, সদস্য সচিব হন মাওলানা নিজাম উদ্দিন মজুমদার । সেদিন ৯ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল। ২০১২ সালে নাঙ্গলকোট লোটাস চত্তরে জামান্স প্লাজার ২য় তলায় সংগঠনটির ২য় মেয়াদের ২০১২-২০১৪ সেশনের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে সভাপতি হন অধ্যক্ষ ইয়াছিন মজুমদার, সেক্রেটারি মাওলানা নিজাম উদ্দিন মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মুকুল মজুমদারকে করা হলেও সে বিদেশ চলে যাওয়ায় করা হয় আশিক উল্যাহ সুমনকে । এই কমিটি বেশ কয়েকটি মিটিং, সভা-সেমিনার, বেশ কয়েকটি জাতীয় দিবস পালনও একটি ম্যাগাজিন (রাইটার্স ম্যাগাজিন) বের করে। এই কমিটির নেতৃত্বেই লেখক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নিবার্হী অফিসার সাইদুল আরীফ স্যার ও একেএম মনিরুজ্জামান খান। ওনারা আমাদের সংগঠনের জন্য সরকারি একখন্ড জায়গা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও দক্ষ নেতৃত্বের অভাবে আজো জায়গা বুঝে পায়নি সংগঠনটি। ২০১৪ সালে সংগঠনটির ২য় সেশনের মেয়াদ পূর্ণ হলে নাঙ্গলকোট মডেল মহিলা কলেজ মিলনায়তনে কবি এস এম আবুল বাশারকে আহবায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। লেখকও ব্যবসায়ী হিসেবে এতটা দক্ষ হলেও সংগঠক হিসেবে তিনি কাঁচা পরিচয় দেন। এতে করে ২০১৫ সালে নাঙ্গলকোট মডেল মহিলা কলেজ মিলনায়তনে ২০১৫-২০১৭ সেশনের কমিটি গঠন করা হয়। সভাপতি করা হয় কবি এস এম আবুল বাশারকে,সাধারণ সম্পাদক করা হয় আমি আজিম উল্যাহ হানিফকে, সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেনকে করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন, জাতীয় দিবস পালন, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতাও জন্মদিন পালন করেই এই কমিটি মেয়াদ পূর্ণ করে। অবশ্য মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ৭ মাস আগে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি আজিম উল্যাহ হানিফ ইস্তফা দিই এবং ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হন মুকুল মজুমদার। ২০১৬ সালে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয় নাঙ্গলকোট মডেল মহিলা কলেজ মিলনায়তনে। সেদিন ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ৭ পাউন্ড কেক কাটা হয়েছিল। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে নাঙ্গলকোট রেলষ্টেশনের একটি চা স্টলে ২০১৭-১৯ সেশনের কমিটি গঠন করা হয়। এতে সভাপতি হয় কবি ও শিক্ষক মো: তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাস্টার শাহ আলম কালাম। এই কমিটি চারজনকে নিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খুলে এশিয়া ব্যাংকে। বেশকিছু প্রোগ্রামাদি হাতে নেয়। একটি ম্যাগাজিন “রাইটার্স ম্যাগাজিন” বের করে। এছাড়া এই কমিটি ২০১৮ সালে লাকসাম বাইপাসে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। সংগঠনের উদ্যোগে ২য় বারের মত লেখক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয় নাঙ্গলকোট জামান্স কিন্ডারগার্টেন মিলনায়তনে। ২০১৯ সালে মেয়াদ পূর্ণ হলে পুনরায় আহবায়ক হন মো: তাজুল ইসলাম স্যার। পরে কমিটি গঠন অনুষ্ঠানে ২০১৯-২০২১ সেশনের কমিটিতে সভাপতি হয় শফিকুর রহমান রেজাকে, সেক্রেটারি করা হয় এইচ এম আজিজুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসাইন মিয়াজীকে করা হয়। কমিটিটি করোনাও বিভিন্ন ব্যস্থতা দেখিয়ে পুরো মেয়াদকালে শুধুমাত্র নিজাম উদ্দিন মজুমদারের বাবার কবর জেয়ারত ছাড়া একটি প্রোগ্রামও হাতে নিতে পারেনি। দক্ষতার অভাবে সংগঠনটির চলমান ইমেজও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কমিটি তার পরিচিতি সভা পর্যন্ত করেনি। কমিটির নিদির্ষষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত অপেক্ষা করে, কমিটির অন্য সদস্যরা বসে উক্ত কমিটি বিলুপ্ত করে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে আহবায়ক করা হয় মোহাম্মদ সোহরাব হোসেনকে, সদস্য সচিব হই আমি আজিম উল্যাহ হানিফ। ২০২১-২৩ সেশনের কমিটিতে সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি করা হয় মোহাম্মদ সোহরাব হোসেনকে,সেক্রেটারি করা হয় মুকুল মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক আলাউদ্দিন মজুমদারকে করা হয়। কিন্তু মেয়াদের মাঝপথে মুকুল মজুমদার বিদেশে চলে গেলে ও সভাপতি সোহরাব হোসেন সংগঠন চালাতে হিমশিম খেলে কমিটি বিলুপ্ত করে ২০২৩ সালের ২৯ এপ্রিল নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আহবায়ক করা হয় সাবেক সভাপতি কবি ও শিক্ষক মো: তাজুল ইসলামকে,সদস্য সচিব করা হয় কবি আফজাল হোসাইন মিয়াজীকে। ঈদুল আযহার পর পরই নাঙ্গলকোটের একটি মিলনায়তনে সংগঠনটির নতুন সেশনের জন্য সুন্দর একটি কমিটি গঠন করা হবে।
উল্লেখ্য যে সংগঠনটির মাধ্যমে নাঙ্গলকোটের ১৬টি ইউনিয়ন,একটি পৌরসভা তথা ৩২৯টি গ্রামে জন্ম নেয়া অগণিত প্রায় ২শতাধিক লেখক-সাহিত্যিকদের একত্রিত করতে ও একই ছায়াতলে থাকার উদ্দেশ্যেই গঠন করা হয়েছিল। সংগঠনটির ১৪ বছরে প্রত্যেকটি সাহিত্য আসরেই ছিল নতুন মুখ। নতুন লেখক। যাদের হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের বাংলা সাহিত্য ভান্ডার। আমরা পাচ্ছি নতুন নতুন লেখক ও লেখা। দেশ ও দেশের বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লেখকদের এই ফ্লাটফরমে একত্রিত করতে কাজ করছি আমরা... সেই সাথে সংগঠনের যে ২ জন সদস্য প্রয়াত হয়েছেন, মাস্টার ইকবাল হোসেন ও কাউছার আলম মিয়াজীর কবরে স্মৃতিফলক নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আমাদের নাঙ্গলকোটে জন্ম নেয়া দেশসেরা লেখকদের মাঝে রয়েছেন, লেখক কলামিষ্ট ও বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, কবি শরীফ আবদুল গোফরান, অধ্যক্ষ সায়েম মাহবুব মজুমদার, সচিব আবদুল আউয়াল, লেখক মাওলানা আবদুস সাত্তার, আরিফুর রহমান,এস এম হেদায়েত প্রমুখ।
সংগঠনটির শুরু থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন এমন কয়েকজনের নাম না বললেই নয়। তাদের মধ্যে অধ্যক্ষ ইয়াছিন মজুমদার, ফারুক আল শারাহ, ফারুক শাহরিয়া, মুকুল মজুমদার, কবি এস এম আবুল বাশার, মাস্টার শাহ আলম কালাম, কবি আফজাল হোসেন মিয়াজী, এইচ এম আজিজুল হক, আলাউদ্দিন মজুমদার, কবি ও শিক্ষক মো: তাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন, ইউনুস মজুমদার বাপ্পি, রবিউল হোসেন রাজু, মাওলানা নিজাম উদ্দিন মজুমদার, ফজলুল কবীর, মাইন উদ্দিন মানিক, আশিক উল্যাহ সুমন, রাশেদুল ইসলাম রাসেল, এডভোকেট আনোয়ার হোসেন, আনোয়ার হোসেন, শফিকুর রহমান রেজা, অধ্যক্ষ নুরুন্নবী রহমানী, লোকমান হোসেন শান্ত, খালেদ হাসান মাসুদ, রোমানা আফরোজ রুবি, ফারজানা আফরোজ সাথী, আনসার আহমেদ আপন, এডভোকেট ইয়াছিন আরাফাত(সুকান্ত আরাফাত), রবিন রোবেল, রবিউল হোসাইন রাজু, আবদুর রহিম বাবলু, খোরশেদ আলম চৌধুরী, এমডি শাহিন মজুমদার, মাস্টার সাহাব উদ্দিন, আজিম উদ্দিন ভূইয়া, এএফ এম শোয়ায়েব, জহিরুল ইসলাম, একেএম মারুফ হোসেন, শাহাদাত হোসেন,সাইফুল ইসলাম,সাদ্দাম হোসেন, হামদুল্লাহ আল মেহেদী, সহিদ উল্লাহ মিয়াজী, সাজ্জাদ হোসেন রাহাত, কেফায়েত উল্লাহ মিয়াজী, মহসীন ভূইয়া, জামাল উদ্দিন স্বপন, তৈয়বুর রহমান সোহেল,সাদ্দাম হোসেন মিয়াজী, ফয়জুন্নেসা সুমী কাজ করেছেন।
নাঙ্গলকোটের বাইরে যারা এই সংগঠনের সহযোগিতা করেছেন, তাদের মধ্যে শামছুল করিম দুলাল, ভাষাসৈনিক আবদুল জলিল, তাসলিমা শাহনুর, দীপ্র আজাদ কাজল, রোকসানা মজুমদার সুখী, রোকসানা ইয়াসমিন মনি, আজাদ সরকার লিটন, আবদুল আউয়াল সরকার, একিউ আশিক, শাহাদাত ইসলাম সবুজ, মোরশেদ আলম হৃদয়, রানা হাসান, আফরোজা লিপি, মমতাজ আক্তার, তাসলিমা লিয়া, মহসীন কবির, রহমত উল্লাহ খান নিরব, আলাউদ্দিন আজাদ, বিল্লাল হোসেন রাজু, খাজিনা খাজি, কবি ফখরুল হুদা হেলাল , সীমান্ত আকরাম, আহমেদ ইউসুফ, আবু সুফিয়ান রাসেল, মাহাদী হাসান, আশিক ইরান, মহি উদ্দিন মোল্লা, হাবিবুর রহমান চৌধুরী,জহিরুল ইসলাম জহির, আবদুর রহমান, হুমায়ুন কবির মানিক, রফিকুল ইসলাম হীরা, আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ।