গম্ভীর-কোহলির দ্বন্দ্ব নিয়ে যা বললেন শেবাগ
সম্প্রতি ভারতীয় সাবেক তারকা ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে বিতর্কে জড়ান কোহলি। আইপিএলের ম্যাচ শেষে প্রকাশ্য এ বিবাদের ঘটনা টিভিতে সরাসরি দেখেননি বিরেন্দর শেবাগ। তবে পরে এই ঘটনা দেখে তিনি অবাক ও বিরক্ত।

সম্প্রতি ভারতীয় সাবেক তারকা ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে বিতর্কে জড়ান কোহলি। আইপিএলের ম্যাচ শেষে প্রকাশ্য এ বিবাদের ঘটনা টিভিতে সরাসরি দেখেননি বিরেন্দর শেবাগ। তবে পরে এই ঘটনা দেখে তিনি অবাক ও বিরক্ত।
তার মতে, বোর্ড কাউকে কড়া শাস্তি দিলেই কেবল এই ধরনের ঘটনা কমবে বা বন্ধ হবে।
সোমবার লখনৌ সুপার জায়ান্টকে হারানোর পর মুখে আঙুল দিয়ে গৌতম গম্ভীরকে চুপ করে থাকার ইঙ্গিত করেছিলেন রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর তারকা ক্রিকেটার বিরাট কোহলি।
এদিন আগে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান করে বিরাট কোহিলদের বেঙ্গালুরু। টার্গেট তাড়া করতে নেমে ১৯.৫ ওভারে ১০৮ রানে অলআউট হয় লখনৌ। ১৮ রানের জয় পায় বেঙ্গালুরু।
ম্যাচ শেষে বেঙ্গালুরুর ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বিরাট কোহলি জার্সি খুলে ড্রেসিংরুমে হেঁটে বেড়াচ্ছেন আর বলছেন- ‘এটা একটা মধুর জয়। এভাবেই এগিয়ে যাও। প্লে-অফ বিবেচনায় নিলে লখনৌর বিপক্ষে এটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ জয়। মাঠে আমরাই বেশি সমর্থন পেয়েছি। এটা একটা অবিশ্বাস্য অনুভূতি। এটা বুঝিয়ে দিয়েছে, সবাই দল হিসেবে আমাদের কতটা পছন্দ করে। ছোট সংগ্রহ গড়েও আমরা নিজেদের চরিত্র দেখিয়েছি। সবার মধ্যে বিশ্বাস ছিল, আমরা পারব।’
ইউটিউবে কোহলির সেই ভিডিওটা বেশি আলোচনায় এসেছে গম্ভীরের সঙ্গে বাদানুবাদের কারণে। ক্যামেরার দিকে সরাসরি তাকিয়ে কাউকে বার্তা দেওয়ার ভঙ্গিতে বিরাট কোহলি বলেছেন, যদি তুমি এটা দিতে পার, তাহলে নিতে পারার মানসিকতাও থাকতে হবে। নিতে না পারলে দিতে এসো না।
পরে পুরো ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। দুজনকেই ম্যাচ ফির শতভাগ জরিমানা করা হয়। ট্রল ও আলোচনা-সমালোচনার ঝড়ও বয়ে যায়।
শেবাগ বললেন, ম্যাচ শেষে আমি টিভি বন্ধ করে ফেলেছিলাম। কোনো ধারণাই ছিল না ম্যাচ শেষে কী হয়েছিল। পরদিন সকালে উঠে দেখি সামাজিক মাধ্যমে তুমুল হইচই চলছে এটা নিয়ে। যা হয়েছে, মোটেও ঠিক হয়নি। হেরে যাওয়ার পর তা মেনে নিয়ে চলে যাওয়া উচিত, জয়ী দল তো উদযাপন করবেই।
ভারতের ব্যাটিং গ্রেটের মতে, তাদের কেন এমন কিছু করতে হবে এবং পরস্পরের দিকে কিছু বলতে হবে! আমি সবসময়ই একটা কথা বলি, এই লোকগুলি আমাদের দেশের আইকন। তারা কিছু বললে বা করলে, লাখ লাখ বাচ্চা তা অনুসরণ করে এবং তারা মনে করেন, ‘আমাদের আইকনরা এটা করেছে মানে আমিও করতে পারি। এই ব্যাপারগুলি তাই মাথায় রাখা উচিত, এই ধরনের আচরণ বন্ধ করা উচিত।
শেবাগ বলেন, বিসিসিআই যদি কাউকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে হয়তো এই ধরনের ঘটনা প্রায় ঘটবেই না বা একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। আগেও এরকম ঘটনা হয়েছে। এসব ব্যাপার ড্রেসিং রুমের ভেতরে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে হওয়াই ভালো। মাঠে এসব ভালো দেখায় না।
আমার নিজের বাচ্চারাই তো ঠোঁট পড়ে বুঝতে পারে কী বলা হচ্ছে। এখানেই আমার খারাপ লাগে। এই ধরনের কথা বললে, আমার বাচ্চারা যদি বুঝতে পারে, আরও অনেক বাচ্চাও তা বুঝতে পারবে। এই বাচ্চারা ভাববে, ‘গম্ভির-কোহলিরা এসব বললে আমরাও বলতে পারব।’ খুব ভালো নিদর্শন নয় এসব।